এই ৮টি চিহ্ন দেখা গেলে আপনার নতুন ব্যবসার উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে


  • By
  • July 10th, 2018
  •    
  • পড়তে সময় লাগবে: 5 minutes
  • 2,200 views
5 mins read

সব নতুন উদ্যোক্তারই স্বপ্ন থাকে তাঁর ব্যবসাটি একদিন বিশাল আকার ধারন করবে।  প্রচুর অর্থ আর খ্যাতি অর্জন করবে তাঁর প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সত্যিকথা বলতে, প্রতি ১০০টির মধ্যে ৯০টি নতুন ব্যবসার উদ্যোগই ব্যর্থ হয়।  কেন মাত্র ১০% উদ্যোগ সফল হয়, কখনও কি ভেবে দেখেছেন?

সফল উদ্যোক্তা ও অনলাইন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ নীল প্যাটেল এর আটটি কারন খুঁজে বের করেছেন।  কারনের বদলে ৮টি চিহ্ন বলতে পারেন।  এই চিহ্নগুলো যদি আপনার উদ্যোগের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আপনার উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে।

যাঁরা ব্যবসা  বানিজ্যের খবরাখবর রাখেন, অথবা একজন বড় উদ্যোক্তা হতে চান – তাদের কাছে “Entrepreneur Magazine” একটি পরিচিত নাম।  বর্তমানে ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে যতগুলো ম্যাগাজিন আর ওয়েবসাইট সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে, entrepreneur তাদের মধ্যে অন্যতম। আর অনলাইন মার্কেটিং জগতে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের প্রায় সবাই নীল প্যাটেল এর নাম জানেন।  বর্তমানে অনলাইন মার্কেটিং জগতে তিনি একজন প্রথম সারির ব্যক্তি। সেইসাথে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক উপদেষ্টা, যাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩০ বছরের কম বয়সী উদ্যোক্তাদের মাঝে সেরা ১০০ জনের একজন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, জাতিসংঘের হিসেবে তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী সেরা ১০০ উদ্যোক্তাদের একজন। 

উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার ৮টি চিহ্ন বা সাইন নিয়ে নীলের লেখাটি ২০১৬ সালের মার্চ মাসে Enterpreneur প্রকাশ করে।  আমরা লেখাটির অনুবাদ আপনার সামনে তুলে ধরছি, যাতে আপনিও আপনার নতুন ব্যবসার মাঝে এগুলো থাকলে খুঁজে বের করতে পারেন, এবং এগুলো দূর করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।



ব্যর্থ উদ্যোগের শিকার হওয়ার পর ফিরে আসতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।  আমার প্রথম উদ্যোগ গুলো ছিল দারুন অনিশ্চয়তায় ভরা।  সাথে ছিল একের পর এক নতুন শুরু, নতুন ভুল এবং ব্যর্থতা।

এখন আমার অর্জনের তালিকায় বেশ কয়েকটি মাল্টি মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আছে, কিন্তু এখনও আমি যথেষ্ঠ ভুল করি।

তবে এখন আমি নতুন কোনও উদ্যোগের দিকে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিতে তাকাতে পারি।  নতুন বিনিয়োগ করে, অন্যদের উপদেশ শুনে এবং জানার প্রবল আগ্রহ থেকে আমি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রাথমিক চিহ্নগুলোর ব্যাপারে জেনেছি।  আপনি যদি এমন কেউ হন যে নতুন একটি উদ্যোগের জন্য কাজ করেন, অথবা কেবল নতুন কিছু গড়ে তোলা শুরু করেছেন, অথবা নতুন কোনও উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন – এই ৮টি বিষয় আপনার জন্য জানা জরুরী।  এগুলো একটি নতুন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার মূল চিহ্ন বা সতর্ক সংকেত।

০১. আপনি আপনার গ্রাহক/ক্রেতাদের বিষয়ে যথেষ্ঠ জানেন না

আমি জানি এটি একটি বহুল কথিত বিষয়। কিন্তু আমাকে এটা বলতেই হচ্ছে।  “নিজের ক্রেতাদের সম্পর্কে জানা” এবং “নিজের একটি অনন্যতা (persona) সৃষ্টি করা” – ইত্যাদির ব্যাপারে সবাই কথা বললেও অল্প কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই শুধুমাত্র এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারে।

নিজের ক্রেতা/গ্রাহকদের মনের ভেতরে প্রবেশ করা এবং কোন জিনিসটা তাদের মাঝে আগ্রহের জন্ম দেয় – তা জানা সত্যিই খুব জরুরী।  আপনার পন্য বা সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা কি ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছে, কোন কোন বিষয়ে তাদের মাঝে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে, ঠিক কি প্রয়োজনে তারা আপনার পন্য বা সেবা নিতে চায় – এসব খুব ভাল করে জানতে হবে।

Image result for customer relation

তাদেরকে ভালভাবে জানুন, তাদের ভালবাসতে শিখুন। তারা না থাকলে আপনার ব্যবসাও থাকবে না।  বেশিরভাগ উদ্যোক্তা নিজেদের পন্য ও সেবার ব্যাপারে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারনে ব্যর্থ হয়।  যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে আপনার ক্রেতা/গ্রাহকরা আপনার পন্য বা সেবাকে সেরা মনে করছে – ততক্ষণ আপনি যা-ই ভাবুন, তাতে কোনও কাজ হবে না।  আপনি যদি সত্যিকার মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে, তাদের মতামত ও অনুভূতি জানতে হবে।  তাদের মন বুঝতে হবে।  যারা অফিসে বা ঘরে বসে শুধুমাত্র আইডিয়া আর স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে – তারা কখনওই গ্রাহকদের কাছাকাছি যেতে পারে না।  আর এই স্বপ্ন থেকে বের হয়ে বাস্তবে না আসলে সেই উদ্যোক্তার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।  যদি দেখেন আপনার ক্রেতাদের সাথে আপনার নিবিড় সম্পর্ক নেই – তবে তা অবশ্যই ভবিষ্য‌ৎ ব্যর্থতার একটি চিহ্ন।

কাজেই নিজের ক্রেতা/গ্রাহকদের ভালকরে জানুন, তাহলে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকবে।

০২. আপনি একটি মানসিক ফাঁদে আটকা পড়ে গেছেন

আমাদের সবারই নিজস্ব একটি চিন্তাধারা বা চিন্তার ধরন আছে, যা আমরা সব সময়ে মেনে চলি।  হয়তো সেই চিন্তার ধরন সৃষ্টি হয়েছে আপনার পারিবারিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে।  অথবা হতে পারে, আপনি আপনার ছেড়ে আসা চাকরি থেকে যা শিখে এসেছেন, সেটাই আপনার চিন্তাধারায় পরিনত হয়েছে।  এমনকি একটি বই বা আর্টিকেল থেকেও আমাদের  মাঝে নতুন একটি চিন্তাধারা সৃষ্টি হতে পারে।

যেভাবেই আপনার চিন্তার ধরনটি সৃষ্টি হোক না কেন, প্রয়োজনে সেই চিন্তাধারা বদলানোর যোগ্যতা আপনার থাকতে হবে।  এটা দিয়ে আমি কি বোঝাচ্ছি? আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে আপনি কোনওকিছুকে ঠিক মনে করলেই সেটি সব সময়ে ঠিক হয়ে যাবে না। 

mental trap

যদি দেখেন যে আপনি সবকিছুকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করছেন, এবং একটা মাত্র পদ্ধতিতে কাজ করছেন – তবে আপনি ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

ঝুঁকি নেয়া, নতুন কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা, এবং একই বিষয়কে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার মাধ্যমে নিজের চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ করুন।  মনে রাখবেন, আপনার উদ্দেশ্য সফল হওয়া, সব সময়ে সঠিক হওয়া নয়।  নিজের ইগোকে প্রশ্রয় দেবেন না।  একজন সফল ব্যবসায়ী তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের সাথে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত ও কাজকে কখনওই মিলিয়ে ফেলেন না।

০৩. মার্কেটের গতির সাথে আপনি তাল রাখছেন না

আপনি যেই সেক্টরেই কাজ করুন না কেন, মার্কেট কোন গতিতে চলবে – তা আপনি কখনওই নিশ্চিত ভাবে বলতে পারবেন না।  এটা অনিশ্চিত, একে শাসন করা যায় না, এবং সত্যি বলতে এটা মাঝে মাঝে আপনার যন্ত্রণারও কারন।  কিন্তু এসবের মাঝেই আপনাকে কাজ করে যেতে হবে।

Image result for market force

আপনার মাঝে যদি এমন ধারনা থাকে যে মার্কেটের গতির সাথে তাল না রাখলে আপনার কোনও সমস্যা হবে না; অথবা যদি এমন ভেবে থাকেন যে, মার্কেট আপনার মত করে চলবে – তাহলে জেনে রাখুন আপনি চরম ভাবে ব্যর্থ হওয়ার পথে আছেন।

মার্কেট কোনও ব্যক্তি নয়।  আপনার ভাবনা, পরিকল্পনা, অনুভূতিতে এর কিছু আসে যায় না। আপনাকেই এর সাথে তাল মেলাতে হবে, কারন আপনাকে সে কোনও সুযোগ দেবে না।

০৪. আপনি যথেষ্ঠ দ্রুততার সাথে কৌশল বদলাচ্ছেন না

পরিস্থিতি বদলের সাথে আপনাকে আপনার কৌশল বদলাতে হবে, বিজনেস মডেলে জরুরী পরিবর্তন আনতে হবে।  এবং সেটা শুধু পরিকল্পনায় থাকলেই চলবে না, যত জলদি সম্ভব কাজ করে ফেলতে হবে।  ব্যবসায়ের জগতে একে “pivot” বলা হয়।  এর অর্থ লক্ষ্য ঠিক রেখে দ্রুত ঘোরা বা দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করা।  কোনও একটা সমস্যায় পড়লে দ্রুত সেই অবস্থা থেকে উঠে আসার চেষ্টা করতে হবে।  কোনওভাবেই যেন তা আপনার মূল কাজে বাধার সৃষ্টি করতে না পারে। 

এটা হয়তো আপনি বহুবার শুনে থাকবেন।  কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।  সময়মত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে আপনি ব্যর্থ হবেন।

Image result for pivot business

এই ব্যাপারে আপনি যত পারদর্শী হবেন, আপনার টিঁকে থাকার ও সফল হওয়ার সম্ভাবনাও ততই বেড়ে যাবে।  দ্রুত কৌশল পরিবর্তন করতে পারা ও দ্রুত সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারার কারনেই একটি নতুন উদ্যোগ সফল হয়।  যদি প্রথম দুই-তিন বছরে পাঁচ, দশ এমনকি পনের বারও আপনাকে এটা করতে হয় – তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই।সব সফল উদ্যোগকেই এই পর্যায় পার করতে হয়।  কৌশল বদলাতে বদলাতেই আপনি একটা সময়ে নিখুঁত কৌশলের দেখা পাবেন।

০৫. আপনি পরিকল্পনাকে যথেষ্ঠ দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করেন না

বাস্তবায়ন করার মাঝেই আসল সাফল্য।  আপনি হয়তো দারুন মেধাবী, এবং সেই মেধা দিয়ে হয়তো আপনি দারুন একটি পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, কিন্তু যতক্ষণ না আপনি সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন – ততক্ষণ কিছুই হবে না।

take action

আপনার মত অনেকেই হয়তো একই রকমের উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে।  এই অনেকের মধ্যে যে সবচেয়ে দ্রুত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে – সেই সফল হবে।  সেটা আপনি হতে পারেন যদি সবার চেয়ে দ্রুত কাজে নামতে পারেন।

স্বপ্ন দেখলেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া যায় না।  সেরা উদ্যোক্তা তারাই, যারা দ্রুততার সাথে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।

০৬. আপনি অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করছেন

ব্যস্ত থাকাটাই ভবিষ্য‌ৎ সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না।  এমনকি ব্যস্ত থাকার মানে সব সময়ে ‘কাজের কাজ’ করাও নয়।  ব্যস্ততা তখনই ভাল যখন আপনি সঠিক কাজে ব্যস্ত থাকেন।  অনেক সময়েই উদ্যোক্তারা দারুন ব্যস্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু তারা বুঝতে পারেন না যে তারা আসলে অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করছেন।

value of time

প্রথমে পরিস্কার হোন যে কাজটি আপনি এখন করছেন, তা কেন করছেন।  এরপরই আপনার ব্যস্ত হওয়া সাজে।

(এই ব্যাপারটি ভালভাবে বুঝতে এই ওয়েবসাইটের “ডিপ ওয়ার্ক” সম্পর্কিত লেখাটি পড়তে পারেন – লড়াকু)

০৭. আপনি আর্থিক লাভের দিকে যথেষ্ঠ মন দিচ্ছেন না

একথা সত্যি যে যদি শুধু টাকার পেছনে ছোটেন, তবে অভাবনীয় সাফল্য পাবেন না।  আপনাকে ছুটতে হবে “প্যাশন” এর দিকে।  তবে আর্থিক লাভের দিকে আপনাকে যথেষ্ঠ মনযোগ দিতেই হবে।

অর্থ না থাকলে ব্যবসাও থাকে না।  হ্যাঁ, একটি নতুন উদ্যোগকে দাঁড় করাতে গেলে অর্থের বাইরেও আপনাকে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ সহ অন্য সবকিছুর প্রতি যত্নশীল হতে হবে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন অর্থের ব্যাপারটি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে, তবে ধরে নিন আপনার ব্যবসা আর বেশিদিন টিঁকবে না। এটি অনেক বড় একটি সতর্ক সংকেত।

the value of money

আর্থিক লাভ যে কোনও ব্যবসার একটি প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচি‌ৎ।  শেষ পর্যন্ত এটাই আপনার সাফল্যের মাপকাঠি। এই অর্থের কারনেই আপনি ও আপনার সাথের সবাই কাজ করছে।  কাজেই আর্থিক লাভের থেকে মনযোগ সরাবেন না। দীর্ঘ সময় লাভ না আসলে যে কোনও ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য।

০৮. আপনার পুঁজির ভান্ডার শেষ হয়ে যাচ্ছে

প্রতিটি উদ্যোগের পেছনেই কিছু না কিছু পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয়।  আগের পয়েন্টে ব্যবসায়ের লাভ না হওয়া নিয়ে কথা বলেছি, আর এই পয়েন্টে বলব আপনার হাতে থাকা অর্থ শেষ হওয়া নিয়ে। – এটাও ব্যবসার জন্য অনেক বড় একটি সতর্ক সংকেত।

নগদ পুঁজি আপনার ব্যবসাকে চলমান রাখবে। পুঁজি শেষ তো ব্যবসাও শেষ।  কাজেই আপনার পুঁজির ভান্ডারের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন, সেটা যেন কখনওই একেবারে খালি না হয়ে পড়ে।

silhouette photo of airplane landing on airline

ইংরেজীতে ‘রানওয়ে’ বলে একটি ব্যবসায়িক টার্ম আছে। ব্যবসার পুঁজি শেষ হওয়ার আগে যে সময়টি আপনার হাতে থাকে তাকেই রানওয়ে বলে। প্লেন ওড়ার আগে যেমন নির্দিষ্ট পরিমান রাস্তা বা পায়, তারপর তাকে উড়তেই হয় – তেমনি ব্যবসার পুঁজি শেষ হয়ে গেলেও ব্যবসা গোটাতেই হয়। তাই  এই ‘রানওয়ের’ দিকে সব সময়ে খেয়াল রাখবেন।  রানওয়ে শেষ হয়ে আসতে দেখলে নতুন করে পুঁজি জমানোর দিকে মনযোগ দিন।  এবং নিশ্চিত করুন শেষ হওয়ার আগেই যেন সেখানে নতুন পুঁজি যোগ হয়।  প্লেন একবার রানওয়ে ছেড়ে উড়ে গেলে আবার তাকে ফিরিয়ে আনা দারুন কঠিন হয়ে পড়ে।  আর নতুন পুঁজি যোগাড় করতে যদি অনেক বেশি সময় পার হয়ে যায়, তবে আপনাকে আবার সব নতুন করে শুরু করতে হতে পারে।  আপনি যদি এই ব্যাপারে সতর্ক না হন, তবে আপনার উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বাধ্য।  কত টাকা আপনার হাতে আছে, এবং কতটা সময় আপনার কাছে আছে – দু’টো সম্পর্কেই আপনার স্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে।  যে পরিমান পুঁজি আপনার হাতে আছে, তা দিয়ে আরও অর্থ আয় করার চেষ্টা করতে হবে।  পরিকল্পনা এমন হতে হবে, যে বিপদের সময়ে যেন কিছু অর্থ আপনার হাতে থাকে।  না থাকলেই বিপদ।

কাজেই এমন কোনও চিহ্ন দেখলে প্রয়োজনে কোনও ধনী আত্মীয়ের থেকে ধার করুন, এমনকি নিজের কালেকশনে থাকা কোনও শখের দামী জিনিস বিক্রি করে দিন – যদি আপনি  প্রথমেই ব্যবসাটিকে ধ্বংস হওয়া থেকে বাঁচাতে চান।

পরিশিষ্ট:

সফল উদ্যোক্তা হওয়া একটি কঠিন কাজ।  একটি ব্যবসা শুরু করা আসলে ব্যর্থতার সাথে বাজি ধরা।  উদ্যোগ ব্যর্থ হলে আপনার অর্থ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে আত্মবিশ্বাসেও চিড় ধরে যেতে পারে।

কিন্তু একই সাথে একটি উদ্যোগের সাথে থাকার মত ভাল অনুভূতি আর কিছুই হতে পারে না।  হ্যাঁ, পরিসংখ্যান বলে ৯০% নতুন উদ্যোগই ব্যর্থ হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান এক সূর্য বা এক চাঁদের মত নয় যাকে বদলানো যায় না।  আপনার মত উদ্যোক্তারা যদি নিজেদের ভুলগুলো আগে থেকেই ধরতে পেরে ব্যবস্থা নিতে পারেন, অথবা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার পথচলা শুরু করতে পারেন – তবে পরিসংখ্যান উল্টে যেতে সময় লাগবে না।  হয়তো একটা সময়ে গিয়ে দেখা যাবে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ৯০%-ই সফল হচ্ছেন।  দিনশেষে ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর ভুল থেকে নেয়া শিক্ষাই মানুষকে সফল করে।  আর ভুল করার আগেই যদি বুঝতে পারা যায়, কাজটি ভুল হবে – তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা আরও অনেকাংশে বেড়ে যায়।

আশা করি এই লেখাটি আপনার সাফল্যে সামান্যতম হলেও অবদান রাখতে পারবে।  লেখাটির বিষয়ে আপনার যে কোনও মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।  আপনার প্রতিটি মতামতই আমাদের কাছে অমূল্য।  আর যদি মনে করেন লেখাটি পড়ে তরুন উদ্যোক্তারা একটু হলেও উপকৃত হবেন, তবে লেখাটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

আপনার সাফল্যেই আমাদের সার্থকতা।  

-লড়াকু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *