যে ৩টি কারণে আপনার লক্ষ্য তাড়াতাড়ি পূরণ হচ্ছে না


  • By
  • May 23rd, 2018
  •    
  • পড়তে সময় লাগবে: 4 minutes
  • 1,727 views
4 mins read

আমরা সবাই চাই একটা সুন্দর, সফল জীবন।  সবাই চাই নিজের চাওয়াটা শতভাগ পূর্ণ হোক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ে ওঠে না।  কেন এমনটা হয়? – এমনই ৩টি কারণ নিয়ে এই লেখা।


আমরা সব সময়েই নিজেদের কল্পনায় একটি অসাধারন জীবন দেখি। যে জীবনে আমরা যা চাই, সেটাই পাই। যেভাবে চাই, সেভাবেই পাই।  কিন্তু বাস্তবে তা আর হয়ে ওঠে না।  আমরা আমাদের আইডলদের জীবনী পড়ি, তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হই – আর বলি, “আমিও একদিন…”

কিন্তু সেই ‘একদিন’ আর আসে না।  মনে মনে কল্পনা করা সেই রূপকথাটি অনেক ক্ষেত্রেই একটা সময়ে গিয়ে দু:স্বপ্নে পরিনত হয়, আর আপনি ডুবে যান, খাওয়া, টিভি/সিনেমা/খেলা দেখা, আড্ডা – এইসব অনর্থক কাজের মাঝে।  

আমরা অনেক সময়ে আমাদের সবচেয়ে ভাললাগার কাজটিও করতে চাইনা, কারন কিছু বিষয় আমাদের পেছনে টেনে রাখে।  এমনকি যদিও আপনি জানেন যে আপনি জীবনে যা চান, তা অর্জন করতে হলে আপনাকে ঠিক কি করতে হবে – তার পরও আপনি সেই কাজটি করেন না।  অনেক সময়ে এটা নিয়ে নিজের ওপর আপনার রাগ, ক্ষোভ বা হতাশাও সৃষ্টি হতে পারে। কারন আপনি মন থেকে চেয়েও নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য কাজ করতে পারছেন না। কিন্তু তারচেয়েও বেশি হতাশার সৃষ্টি হয়, যখন আপনি বুঝতে পারেন না ঠিক কি কারনে আপনি পারছেন না। কোন জিনিসটি আপনাকে পেছনে টেনে রেখেছে।

মূলত ৩টি কারনে এই ব্যাপারটি বেশিরভাগ মানুষের সাথে ঘটে থাকে। 

সত্যি বলতে, এগুলো নতুন কোনও বিষয় নয়।  সবগুলোই আপনার-আমার জানা বিষয়। কিন্তু আপনি হয়তো ধারনাও করতে পারেননি, এগুলোর জন্য আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছেন না।

এগুলোকে জয় করতে পারলে আপনার মন অনেক হাল্কা হয়ে যাবে, সেই সাথে আপনি আপনার কাজগুলো নির্বিঘ্নে করতে পারবেন।

০১. অতিরিক্ত তথ্য

বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে চারিদিক থেকে, সব সময়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আমাদের দিকে ছুটে আসছে।  আমাদের আশপাশের মানুষ, ইন্টারনেট, ফোন ইত্যাদি থেকে শুরু করে রাস্তার বিলবোর্ড পর্যন্ত সবকিছুই আমাদের প্রতি মূহুর্তে তথ্য দেয়ার চেষ্টা করছে।

এতসব তথ্য প্রতিনিয়ত আমাদের মাথায় জমা হতে হতে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করে।  আপনি যদি নির্বিঘ্নে আপনার একান্ত নিজস্ব কাজগুলো করতে চান, তবে আপনাকে এইসব অপ্রয়োজনীয় তথ্যপ্রবাহের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

নিচের টিপসগুলো অনুসরন করলে এই প্রভাব থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবেন:

# অপ্রয়োজনীয় মার্কেটিং ই-মেইল পড়বেন না

# যেসব সাইট থেকে অপ্রয়োজনীয় পুশ মার্কেটিং ই-মেইল আসে, সেগুলো unsubscribe করুন

# পত্রিকা সহ যে কোনও কাগজের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে সেগুলো ফেলে দিন

# যেসব ই-মেইল রাখা জরুরী নয়, সেগুলো ডিলিট করে ফেলুন

# পুশ নোটিফিকেশনে যতটা সম্ভব কম নজর দিন

# ফোন কোম্পানীর পুশ মার্কেটিং এস এম এস সার্ভিস কাস্টোমার কেয়ারে ফোন দেয়ার মাধ্যমে বন্ধ করে দিন

# অযথা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন

# দিনে মাত্র একবার খবর দেখুন/পড়ুন, সেটাও অল্প সময়ের জন্য এবং যেসব বিষয় আপনার কাজ ও জীবনের সাথে জড়িত- শুধু সেগুলোর ব্যাপারে খবর নিন।  বিশেষ করে তারকা/মিডিয়া নিয়ে যেসব খবর বের হয় সেগুলোর সত্যিকার অর্থে কোনও মূল্য নেই। 

Related image

পৃথিবীর ইতিহাসে কোনও সভ্যতা এত তথ্যের মধ্যে থাকেনি, যতটা আমরা আছি। কিন্তু এটা সবদিক দিয়ে ভাল নয়। অপ্রয়োজনীয় ফাইল যেমন কম্পিউটার বা ফোনের গতি কমিয়ে দেয়, কাজে বাধার সৃষ্টি করে, অতিরিক্ত তথ্যও মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ ও ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটায়।

কাজেই লক্ষ্য ঠিক রেখে নির্বিঘ্নে নিজের কাজ করতে হলে অপ্রয়োজনীয় তথ্যে মনযোগ না দেয়ার পাশাপাশি সেগুলোর সামনে পড়া থেকে যতটা দূরে থাকা যায় – ততই ভাল।

০২. অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা করা

এই ব্যাপারটির সাথে অতিরিক্ত তথ্যেরও একটা সম্পর্ক আছে।  অতিরিক্ত তথ্যের কারনে অতিরিক্ত চিন্তা মাথায় আসে। যেসব জিনিস নিয়ে চিন্তার কোনও প্রয়োজন নেই; যেসব বিষয় কোনও ভাবেই আপনার কাজ ও জীবনের সাথে জড়িত নয় – আপনি নিজের অজান্তেই সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে দেন।  আপনি হয়তো বুঝতেও পারেন না, এই চিন্তাগুলো কতটা শক্তি আপনার শরীর ও মন থেকে প্রতিদিন নিংড়ে নিচ্ছে। এইসব চিন্তা করতে গিয়ে সত্যিকার জরুরী বিষয়ে চিন্তা ও কাজ করার সময় ও শক্তি আমরা ক্ষয় করে ফেলি।

অতিরিক্ত তথ্যের প্রভাবে অতিরিক্ত চিন্তা করা ছাড়াও, যে কোনও বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা অনেক মানুষের স্বভাব।  ভেবে দেখুন, এই স্বভাবটি আপনার মাঝেও আছে কি-না। হয়তো এই স্বভাবের কারনেই আপনি যা চাচ্ছেন তা করতে পারছেন না।  কোনও একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার পর হয়তো তার ভাল-মন্দ চিন্তা করতে করতে আপনি আসল কাজটি করার স্পৃহাই হারিয়ে ফেলেন।  সফল মানুষেরা  কোনও একটি লক্ষস্থির করার পর খুব বেশি চিন্তা না করে কাজ শুরু করে দেন।  অতিরিক্ত চিন্তা করে আপনি যা চান, তা কখনওই পাবেন না।  সিদ্ধান্ত নেয়ার পর কাজে নামতে হবে, কাজের ফলাফল দেখে পরের সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে।

too much thinking

অতিরিক্ত চিন্তা করার আরেকটি প্রধান কারন, সবকিছু ‘পারফেক্ট’ ভাবে করতে চাওয়া।  আমরা অনেকেই বিশেষ কোনও কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি কারন আমরা চাই কাজটি ‘সঠিক সময়ে’, ‘সেরা’ ফলাফল সহ করতে।  কিন্তু সত্যিকথা বলতে, আপনি যদি চিন্তা করে সময় পার করতে থাকেন, তবে সঠিক সময়টি কখনওই আসবেনা। কোনও কাজ শুরু করার সেরা সময় আসলে আপনি যে মূহুর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – সেই মূহুর্তটাই।  আর চিন্তা করে কখনও সেরা ফলাফল বের করে আনা যায় না।  সেরা ফলাফল কখনও ভাবনার ফলাফল হতে পারে না – এটা আসলে কাজের ফলাফল। কাজে নামলে হয়তো আপনার ভুল হবে, কাজটি আপনার মনের মত হবে না। কিন্তু কাজ করতে থাকলে এক সময়ে না এক সময়ে সেই কাঙ্খিত ফলাফল আপনি পেয়েই যাবেন।

তবে এসব বলার মানে এই নয় – যে আপনি কোনওরকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই বোকার মত যে কোনও কাজে ঝাঁপ দেবেন।  অবশ্যই আপনাকে প্রতিটি কাজে নামার আগে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে কখন আপনি একই চিন্তা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে করা শুরু করেছেন।  এই চক্রটিই আসলে আমাদের কাজ করতে বাধা দেয়।  কাজেই নিজের চিন্তার গতি ও পথকে আপনার নজরে রাখতে হবে।

প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখুন। যতটা কম সময়ে যতটা বেশি চিন্তা করতে পারবেন, সত্যিকার কাজের জন্য ততটাই সময় পাবেন।  আর অতিরিক্ত চিন্তার বলয় থেকে বের হতে পারলে বেঁচে যাওয়া মেধা ও শক্তি দুটোই সত্যিকার লক্ষ্যটি পূরণে কাজে লাগবে।  মনে রাখবেন, প্রতিটি দিনের জন্য আমাদের শরীর ও মনে একটি নির্দিষ্ট পরিমান শক্তি বরাদ্দ থাকে। কাজেই অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত চিন্তা করে সেই শক্তি ক্ষয় করা মানে একটি দিন নষ্ট করা। আর সপ্তাহ, মাস আর বছর কিন্তু দিনেরই যোগফল।

০৩. অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া

প্রতিটি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াও আমাদের কাজের স্পৃহা নষ্ট করে।  আমাদের জীবনকে সহজ করতে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিমান কমানো জরুরী।  ব্যাপারটি হয়তো আপনার কাছে এখন একটু জটিল মনে হচ্ছে, কিন্তু এই অংশটি পুরোটা পড়ার পর আপনার এই দ্বিধা দূর হয়ে যাবে।

আমরা হয়তো নিজের অজান্তেই প্রতি মূহুর্তে সিদ্ধান্ত নিতে থাকি, যা আমাদের মানসিক শক্তি ক্ষয় করার পাশাপাশি সত্যিকার দরকারী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে ফেলে।

অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া বলতে বোঝাচ্ছি আজ দুপুরে কি খাবেন, কি রঙের জামা পরে বের হবেন, সিএনজিতে যাবেন, না উবারে যাবেন – ইত্যাদি সবকিছুই আসলে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে বাধ্য করে।  আপনি হয়তো বুঝতে পারেন না – কিন্তু এটা আপনার ওপর যথেষ্ঠ মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। এরফলে আমরা অনেক সময়েই পরিস্কার ভাবে চিন্তা করতে পারি না।  সেইসাথে বড় বড় বা জরুরী সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের দেরি হয়। একটি কথা জানিয়ে রাখা জরুরী মনে করছি – আপনি কি রঙের পোশাক পরবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে মস্তিষ্ককে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, টেন্ডার ড্রপ করার কোটেশনে কি পরিমান বাজেট দেবেন – সেই সিদ্ধান্ত নিতেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।  কাজেই বুঝতেই পারছেন আপনার মস্তিষ্কের খাটনি কিন্তু এসব ‘সাধারন’ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়েও কম হয় না।  অন্যদিকে এইসব ‘ছোট’ ‘ছোট’ সিদ্ধান্ত যদি এক করে দেখা যায়, তবে দেখা যাবে বড় বড় সিদ্ধান্তকেও তারা একজোট হয়ে ছাড়িয়ে গেছে।

Image result for choosing between shirts

এইসব ছোটখাট সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমরা অনেক সময়ে  আমাদের শক্তি এতটাই ক্ষয় করে ফেলি, যে সত্যিকার জরুরী বিষয়গুলো নিয়ে ভাবার মত মন মানসিকতা আমাদের থাকে না।  কাজেই এইসব সিদ্ধান্ত যাতে নিতে না হয় – সেটা নিশ্চিত করাটা দৈনন্দিন ও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য জরুরী।

এইসব অদরকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার খাটনি থেকে মস্তিষ্ককে রেহাই দিতে আপনি যেটা করতে পারেন, তা হল আপনার জীবনকে একটি রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসা, অন্য ভাবে বললে, কিছু কিছু বিষয়কে অভ্যাসের পর্যায়ে নিয়ে আসা।

অভ্যাস বলতে বোঝাচ্ছি, একটি সিদ্ধান্ত একবার নিয়ে সেটিকেই দীর্ঘ সময়ের জন্য চালানো।  যেমন আপনি যদি সপ্তাহে তিন দিন জিমে যেতে চান, তবে প্রতিদিন ‘আজ যাব কি যাবনা’ এই সিদ্ধান্ত না নিয়ে – নির্দিষ্ট তিনটি দিন ঠিক করুন।  হতে পারে সেটি শুক্র, রবি, মঙ্গল বা অন্য তিনটি দিন।  অথবা আজ দুপুরে মাছ খাবেন না মাংস খাবেন এই সিদ্ধান্ত প্রতিদিন না নিয়ে কোনদিন কি খাবেন, সেটি নির্দিষ্ট করে ফেলুন – এতে অনেক এনার্জি বেঁচে যাবে।  হ্যাঁ – হয়তো মাঝে মাঝে একটু ব্যতিক্রম করতে আপনার ইচ্ছে হবে – এবং আপনি সেটি করবেনও – কিন্তু সেটা আপনার প্রতিদিনের জীবনকে ব্যাহত করবে না।  প্রতি রবিবার মাংস খেলে, একদিন সব্জী খেতে ইচ্ছে করলে সেটা আপনি করতেই পারবেন।  কিন্তু একটি রুটিন মনে মনে ঠিক করে রাখতে পারলে আপনার মস্তিষ্ক প্রতিদিনের অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বেঁচে যাবে।

কিছুদিন এই রুটিন মেনে চললে এটি আপনার অভ্যাসে পরিনত হবে এবং এর ফলে আপনার জীবনযাপন এতটাই সহজ হয়ে যাবে, যা হয়তো আপনি এখন ভাবতেও পারছেন না।  অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে সময় দিতে গিয়ে আমরা নিজের অজান্তেই প্রয়োজনীয় অনেক সময় নষ্ট করে ফেলি যা সত্যিকার কাজে লাগানো যেতো।  কিন্তু না জানার ফলে আমরা বুঝতেও পারি না, এই জিনিসগুলিই লক্ষ্যের জন্য কাজ করা ও লক্ষ্য অর্জন থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখছে।

যে কোনও ক্ষেত্রে সফল হতে হলে আপনাকে আপনার মেধা, শক্তি, বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সেই কাজে লাগাতে হবে।  ধরুন একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীর কথা।  সারাদিন তাঁকে প্রচুর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অনেক মানুষকে সামলাতে হয়। প্রতিটি কথা মেপে বলতে হয়, প্রতিটি টাকা হিসেব করে খরচ করতে হয়।  এখন যদি তিনি সকাল বেলা ডিম খাবেন না জেলি খাবেন, না দু’টোই খাবেন, আজ কি রঙের শার্ট পরবেন, লাল না কালো – এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নিজের চিন্তাশক্তি খরচ করেন – তাহলে কি তাঁর কোনও উপকার হবে? তিনি যদি একজন মডেল বা অভিনেতা হতেন, তখন শার্টের রঙের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াটা যুক্তিযুক্ত ছিল।

ব্যবসায়ীটি যদি চান যে এই অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো তাঁর মস্তিষ্কের শক্তি ক্ষয় না করুক, তবে তাঁর উচি‌ৎ হবে নির্দিষ্ট দিনের জন্য নির্দিষ্ট খাবার, জামা ইত্যাদি আগেই ঠিক করে রাখা।  সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে দুই-তিন ঘন্টা খরচ করে পুরো সপ্তাহের জন্য এইসব সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা যায়।  সাত দিনের জন্য সাতটি শার্ট একটির পাশে একটি বা একটির ওপর একটি রেখে দেয়া যায়, প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন তুলে নিলেই হলো। মোটকথা আপনার সবচেয়ে জরুরী কাজ ও লক্ষটির দিকেই আপনার মেধার বেশিরভাগটি খরচ করুন।  দেখবেন আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা ও কাজের কতটা সময় ও সুযোগ বের হয়ে গেছে।

পরিশিষ্ট:

যেসব মানুষ জীবনে অসাধারন সাফল্যের দেখা পেয়েছেন, তাঁরা অন্য সাধারন মানুষের মতই। কিন্তু সাধারন মানুষদের থেকে তাঁদের পার্থক্য তাঁরা নিজেদের জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্য চিন্তা করে সময় নষ্ট করেন না। তাঁরা কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অন্য সবকিছুকে বাদ দিয়ে লক্ষের দিকে এগিয়ে যান।  তাঁরা সাধারন মানুষের তুলনায় জীবনকে একটু অন্য দৃষ্টিতে দেখার ও বোঝার চেষ্টা করেন।  এবং দেখে এবং বুঝে তাঁরা বসে না থেকে, সেগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। নিজে পরখ করে দেখেন।

এই লেখায় আপনাকে যা বলা হলো, তা যদি সত্যিই আপনার জীবনে কাজে লাগাতে চান – তবে দেরি না করে নিজেই পরখ করে দেখুন – ব্যাপারগুলো আসলেই কতটা কাজ করে।  লেখাটি পড়ে, বা টিপসগুলো কাজে লাগিয়ে আপনি কেমন বোধ করছেন, বা কি মনে করছেন – কমেন্ট করে আমাদের জানান।  আপনার প্রতিটি মতামতই আমাদের জন্য অমূল্য।  ভাল লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন।  আমাদের সাথে থাকুন।  সাফল্যের পথে, প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াকু আপনার সাথে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *