ধনী হতে চাইলে এই ১৪টি অভ্যাস আজই বাদ দিন – ধনী না হওয়ার ১৪ চিহ্ন


  • By
  • January 23rd, 2019
  •    
  • পড়তে সময় লাগবে: 9 minutes
  • 16,594 views
ধনী হতে চাইলে

আপনি কি ধনী হতে চান? – ধনী হতে চাইলে এই লেখার প্রতিটি পয়েন্ট খুব মন দিয়ে পড়ুন।  না – আমরা সরাসরি আপনাকে ধনী হওয়ার উপায় বলব না।  কিন্তু ধনী হওয়ার যাত্রা শুরু করতে প্রথমেই এই বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেয়া জরুরী।

ভালো অভ্যাস করার আগে যেমন আগের খারাপ অভ্যাসগুলো বাদ দেয়া জরুরী, তেমনি ধনী হতে চাইলে – যেসব অভ্যাস আপনাকে ধনী হতে দেবে না, সেগুলো বাদ দেয়া জরুরী।

আজ আপনাকে যে অভ্যাসগুলোর কথা বলব, সেগুলো আসলে ধনী না হওয়ার চিহ্ন।  এগুলো প্রায় সব সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা যায়।  সবগুলো না হলেও এসব অভ্যাসের কিছু না কিছু সব সাধারণ মানুষের মধ্যেই আছে।  এবং এর কিছু এতই সাধারণ যে, না বলে দিলে বোঝাও যায় না এগুলো আপনার ধনী হওয়ার ইচ্ছাকে গোপনে গলা টিপে মারছে।

কাজেই, আপনি যদি ধনী হতে চান, তবে খুব মন দিয়ে প্রতিটি পয়েন্ট পড়ুন এবং ভালো করে ভাবুন যে, এগুলোর কোনওটা আপনার মধ্যে আছে কিনা।  যদি থাকে – তবে আজ থেকেই সেগুলো দূর করার কাজে নেমে পড়ুন।  আজ থেকেই আপনার জীবন বদলাতে শুরু করবে।  গতকাল যদি আপনার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা হয় ১০, তাহলে আজই সেই সম্ভাবনা হয়ে যেতে পারে ৫০ এরও বেশি।  চলুন তাহলে, আর দেরি না করে জেনে নিই ধনী হতে চাইলে কি কি অভ্যাস আপনাকে বাদ দিতে হবে।

ধনী হতে চাইলে যে ১৪টি অভ্যাস বাদ দিতে হবে:

মূল পয়েন্টগুলো বর্ণনা করার আগে আপনাকে ছোট্ট একটা সারাংশ দিয়ে রাখি, তাহলে ব্যাপারগুলো ভালোভাবে অনুধাবন করতে আপনার সুবিধা হবে:

ধনী হওয়ার জন্য আপনাকে কয়েকটি জিনিস নিজের ভেতরে এক করতে হবে: বুদ্ধি, যোগাযোগ দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও আত্ম নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ, এ্যানালাইসিস, এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে বর্তমানে ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতা।

মূল পয়েন্টগুলো পড়তে পড়তে এই বিষয়গুলোর সাথে ধনী হওয়ার সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে থাকুন।  পড়া শেষ হলে আপনি নিজেই অনেক কিছু বুঝতে পারবেন।

এখন জেনে নেয়া যাক সেই ১৪টি ধনী না হওয়ার চিহ্ন:

০১. আপনি হিসাব করতে পছন্দ করেন না

ধনী হতে

আপনি যদি সত্যিকার ধনী হতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই হিসেবী হতে হবে।  এখানে হিসেবী হওয়া মানে শুধু হিসেব করে টাকা খরচ করার কথা বলছি না।  আপনাকে প্রতিটি টাকা কোথায় যাচ্ছে, এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, কত টাকা আয় হচ্ছে, কোন খাতে ব্যয় করাটা লাভজনক হবে – এসব বিষয় খুব ভালো করে হিসেব করতে হবে।  আর এই হিসাব মনে মনে না – একদম খাতা কলম ও ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে করতে হবে।

অনেকেই আছেন, হিসাব করতে পছন্দ করেন না।  আপনি হয়তো এমন অনেক বড়লোক দেখেছেন, যাঁরা অনেক টাকা থাকার পরও খরচ করার আগে অনেক ভাবেন, অনেক কিছু হিসাব করে তারপর খরচ করেন।  কারণ ধনী হওয়ার আগে থেকেই তাঁদের মাঝে এই অভ্যাসটি ছিল।  অনেকে এটা পছন্দ না করলেও, আসলে তাঁদের ধনী হওয়ার পেছনে এই অভ্যাসটির অনেক বড় অবদান।

প্রতিটি টাকা খরচ করার আগে তাঁরা ভেবে নেন যে, টাকাটি যোগ্য স্থানে খরচ করা হচ্ছে কিনা। 

খরচের হিসাবের বাইরেও আপনাকে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজাতে হবে।  এর জন্যও আপনাকে হিসাবে দক্ষ হতে হবে।

আপনার হাতে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে, তবে কিভাবে সেই টাকা কাজে লাগিয়ে আপনি আরও টাকা আয় করতে পারবেন – সেটা অবশ্যই আপনাকে হিসাব করে পরিকল্পনা করতে হবে।

একটু  খেয়াল করলেই দেখবেন – যেসব ধনী লোক একদমই অশিক্ষিত – তাঁরাও হিসাবে পাকা হন।  এমন অনেক ধনী ব্যক্তি আছেন, যাঁরা এক অক্ষর ইংরেজী পড়তে পারেন না – কিন্তু হিসাবে আপনি তাঁদের ঠকাতে পারবেন না।

ধনী হতে চাইলে হিসাবকে কখনওই না বলতে পারবেন না।  নিজের চেষ্টায় ধনী হতে হলে আপনাকে অবশ্যই মোট আয়ের থেকে লাভ ক্ষতির হিসাব করা, খরচের হিসাব করা, ট্যাক্স হিসাব করা, বাজেট করা – ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

এটা খুব কঠিন কিছুও নয়।  ফিজিক্স বা ক্যালকুলাসের জটিল অংক আপনাকে জানতে হবে না।  সাধারণ যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, শতকরা নির্ণয় – এগুলোই করতে হবে।  মূল কথা হিসাবকে ভালোবাসতে হবে।  চর্চা করা শুরু করলে এক সময়ে ভালো না লাগতে লাগতেই আপনি এতে দক্ষ হয়ে উঠবেন।

০২. আপনি টাকা জমানোতে অতিরিক্ত আগ্রহী

Copper-colored Coin Lot

ধনী হওয়ার জন্য হিসেব করে খরচ করা ও টাকা জমানো অবশ্যই প্রয়োজন।  কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাঁরা শুধু টাকা জমিয়েই যান।  সব বাড়তি টাকাই যারা জমায়, তারা আসলে সত্যিকার অর্থে ধনী হতে পারে না।

আপনি হয়তো চাকরি করে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা জমান।  এবং চাকরি জীবনের শেষে হয়তো তা ৫০ লাখ বা ১ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে।  কিন্তু ২০-৩০ বছর ধরে ১ কোটি টাকা জমিয়ে জীবনের শেষে সেই টাকা দিয়ে আপনি আসলে তেমন কিছু করতে পারবেন না।  আর ওটাকে সত্যিকার ধনী হওয়াও বলা যায় না।

এটা আসলে ধনী হওয়ার চেষ্টা নয়, এটা গরিব না হওয়ার চেষ্টা।  মূলত ঝুঁকি নিতে ভয় পাওয়ার কারণেই মানুষ এটা করে।

এই বিষয়ে ৬ নম্বর পয়েন্টে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

০৩. আপনি আয়ের চেয়ে বেশি খরচ করেন, অথবা বাজে খরচ করেন

ধনী হওয়ার উপায়

ইদানিং “লাইফস্টাইল মেইনটেন” কথাটা খুব জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।  দামী মোবাইল থাকা, উইকএন্ডে দামী রেস্টুরেন্টে খাওয়া, বিদেশে ট্যুর দেয়া – এইসব না করলে আজকাল ‘প্রেস্টিজ’ রাখাটাই সমস্যা হয়ে গেছে।  বিশেষ করে কর্পোরেট চাকরিজীবিদের মধ্যে এই প্রবণতা মহামারী আকার ধারণ করেছে।

এসব আপনি অবশ্যই করতে পারেন, কিন্তু সেটা হতে হবে এক্সট্রা টাকা দিয়ে।  আপনার যখন টাকা উপচে পড়ছে, তখন আপনি এগুলো করতে পারেন – কিন্তু শুধুমাত্র প্রেস্টিজ রাখার জন্য নিজের বেতনের টাকা খরচ করে, বা এমনকি ক্রেডিট কার্ড এর ধার করা টাকা দিয়ে এগুলো করলে আপনার ভবিষ্য‌ৎ অন্ধকার।

এই অভ্যাস বজায়ে থাকলে কর্মজীবন শেষে আপনি দারুন বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। 

এই বড়লোকি দেখাতে গিয়ে সত্যিকার বড়লোক হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  লাখ টাকার ওপরে বেতন পেয়েও অনেকে মাসের শেষে ক্রেডিট কার্ড ভাঙিয়ে চলছে।  অথচ তারা ইচ্ছা করলেই ৫০-৬০ হাজার টাকায় চলতে পারে, এবং বাকি টাকাটা বিনিয়োগ করে এক সময়ে নিজেই একটি ভালো ব্যবসার মালিক হতে পারে।

আপনার মাঝেও যদি এই ধরনের অভ্যাস থাকে, তবে আজই বাদ দিন।  কোনওকিছু কিনতে না পারাটা কোনও লজ্জার বিষয় নয়।  আপনার কলিগ বা বন্ধু লাখ টাকার আইফোন চালায় বলে আপনি হাজার টাকার এ্যান্ড্রয়েড চালাতে পারবেন না – এটা বোকার মত কথা।  একটু বুদ্ধি খাটান আর হিসাব করুন, একটি আইফোন না কিনে আপনি ভবিষ্যতে কয়টা আইফোনের টাকা আয় করতে পারবেন?

যে জিনিসটা প্রয়োজন, এবং যা আপনি আপনার সাধ্যের মাঝে কিনতে পারবেন – শুধু সেটাই কিনুন। পকেটে ২ হাজার টাকা থাকলে ১৫০০ টাকার জামার বদলে ৫০০ টাকার জামা কিনুন।  পারলে আরও কমে কেনার চেষ্টা করুন।  এটাই ভবিষ্যতে সত্যিকার ধনী হওয়ার লক্ষণ।

দামী জিনিস কিনতে চাওয়া দোষের কিছু নয়।  কিন্তু সাধ্যের বাইরে কেনাটা বোকামী।  বরং টার্গেট সেট করুন যে, এই জিনিস আপনি যথেষ্ঠ টাকা হওয়ার পর কিনবেন।  দেখবেন এই টার্গেটই আপনাকে নিজের আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য কাজ করতে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: সাধ্যের চেয়ে বেশি খরচ করা বা বড়লোকি দেখানোএর ১০টি কুফল

০৪. আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে চিন্তা না করেই মানুষের কথা শোনেন

Man In Gray Coat

আমরা অনেক সময়েই আশপাশের মানুষের পরামর্শ নিয়ে থাকি।  আমাদের সমাজে একটা বিষয় প্রচলিত আছে – বয়সে বড় মানেই তার কথামত চলতে হবে।  আপনি অবশ্যই বড়দের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করবেন না – কিন্তু তার মানে এই নয় যে বয়সে বড় হলেই একজন সব বিষয়ে ভালো জানবেন।

ধরুন আপনি অনলাইনে ব্যবসা করতে চাইছেন।  এখন এমন একজন ‘গুরুজন’ এসে যদি আপনাকে পরামর্শ দেয় – যার কিনা কম্পিউটার ধরতেই হাত কাঁপে – এবং আপনি তার কথামত চলেন – তবে আপনার ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আপনি ধনী হতে চাইলে এমন মানুষের কথা মেনে চলুন, যারা নিজেরা ধনী হয়েছেন, অথবা ধনী হওয়ার পথে আছেন।  পরামর্শ শুধু তাদের কাছ থেকেই নিন যাঁরা সেই বিষয়ে অভিজ্ঞ।  আমাদের আশপাশে এমন অনেক লোকই আছে যারা জীবনে বড় হওয়ার উপদেশ দেয়, কিন্তু নিজেরা আসলে জীবনে কিছুই করতে পারেনি।

কথাগুলো শুনতে হয়তো অনেক কর্কশ লাগছে – কিন্তু বাস্তবতা এটাই।

যখন কারও কাছ থেকে উপদেশ নেবেন – তখন তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা ভাববেন।  এই লোক এখন যে অবস্থানে আছেন, আপনি কি সেই অবস্থানে যেতে চান? তিনি যা অর্জন করেছেন, আপনি কি তা অর্জন করতে চান? – যদি উত্তর হয়, ‘না’ – তবে তার পরামর্শ সম্ভবত আপনার কোনও উপকারে আসবে না।

এমন মানুষের পরামর্শ নিন, আপনি নিজে যাদের মত হতে পারলে খুশি হতেন।  এমন মানুষ যারা আপনি যা অর্জন করতে চান – তা অর্জন করেছেন।  শুধু ধনী হওয়া নয় – সব ক্ষেত্রেই এটা গুরুত্বপূর্ণ।  আপনি যা-ই হতে চান না কেন, সেই ক্ষেত্রের সফল ও আশাবাদী মানুষদের সাথে সম্পর্ক করুন।

এমন মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করুন ও সময় কাটান যারা সফল অথবা সফল হতে চায়।  এরা আপনাকে সামনে চলতে উ‌ৎসাহ দেবে।  এবং প্রয়োজনের সময়ে সঠিক নির্দেশনা দেবে।

০৫. আপনার মাঝে শৃঙ্খলার অভাব আছে, এবং আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না

শৃঙ্খলা, মানিব্যাগ, ধনী

যদি নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চান, তবে আপনাকে কষ্ট করতেই হবে।  আর সেইসাথে নিজেকে কঠোর শৃঙ্খলার মাঝে আটকে ফেলতে হবে।  রাতারাতি বড়লোক বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই।

আপনি কি জানেন, ১০% এরও কম লটারী বিজয়ী তাঁদের টাকা ধরে রাখতে পারেন? হঠা‌ৎ‌ করে সাফল্য আসলে তা কোনওদিনই স্থায়ী হয় না।  সত্যিকার ধনী হতে চাইলে আপনাকে দিনের পর দিন, গভীর মনোযোগ দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।  এর কোনও বিকল্প নেই।

আপনার সব কাজ সময়মত করতে হবে।  কাজের সময়ে ঘুমানো, কাজের সময়ে বিনোদন – এইসব ভুলে যেতে হবে।

আপনি যদি ব্যবসা করে ধনী হতে চান, তবে প্রথমে আপনাকে আপনার পরিশ্রম আর মনোযোগের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে।  তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে হবে।

জ্যাক মা, ইলন মাস্ক, বা জেফ বেজোস এর মত বিশ্বের সেরা ধনীরা এভাবেই কাজ করেছেন।

শৃঙ্খলা মেনে চলা মানুষ কাজের সময়ে কাজ করেন, ইচ্ছা অনিচ্ছার ধার ধারেন না।  মুডকে পাত্তা দেন না।  সেল্‌ফ ডেভেলপমেন্ট কোচ ও লেখক ব্রায়ান ট্রেসি তাঁর “দি পাওয়ার অব সেল্‌ফ ডিসিপ্লিন” বইতে বলেছেন, সাধারণ মানুষের পারফরমেন্স তাদের মুডের ওপর নির্ভর করে, আর অসাধারণ সফল মানুষরা যে মুডেই থাকেন না কেন, তাঁরা তাঁদের সেরা পারফরমেন্স দেয়ার চেষ্টা করেন। 

মুড নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করে যাওয়ার কারণেই তাঁরা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারেন, যা এক সময়ে তাঁদের আর্থিক দিক থেকেও অন্যদের চেয়ে ওপরে নিয়ে যায়।

আপনি যদি নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তবে নিজের আর্থিক অবস্থাকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

০৬. আপনি সত্যিকার বিনিয়োগ করেন না

White Printer Paper

২ নম্বর পয়েন্টে আমরা অতিরিক্ত টাকা জমানোর অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছিলাম।  টাকা জমিয়ে জমিয়ে হয়তো আপনি উচ্চ মধ্যবিত্ত হতে পারবেন – কিন্তু সত্যিকার ধনী হতে পারবেন না।  সত্যিকার ধনী হওয়ার জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ করা।  যে ১ লক্ষ টাকা ব্যাংকে জমিয়ে রাখলে বছর শেষে কয়েক হাজার টাকা দেয়, সেই টাকাই বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে তা থেকে কয়েক হাজার টাকা আসতে পারে।

আপনার হাতে কিছু টাকা জমলে হিসাব করে বের করতে হবে যে কোন খাতে বিনিয়োগ করলে এই টাকা থেকে সবচেয়ে বেশি লাভ করা যাবে।  এবং সেই খাতেই টাকাটি বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রথমে ছোট ছোট বিনিয়োগ করে বিনিয়োগের অভ্যাস করুন।  প্রথমেই বড় ঝুঁকি নেয়ার দরকার নেই।  সমবায় ব্যবসা, কয়েকজন মিলে জমি কেনা – এই ধরনের ছোট ছোট বিনিয়োগ করতে থাকুন।  তারপর ধীরে ধীরে বিনিয়োগের পরিমান বাড়াতে থাকুন।  বিনিয়োগের পরিমান বাড়ার সাথে সাথে আপনার ব্যবসায়িক মেধা ও আয়ের পরিমানও বাড়তে থাকবে।

বিনিয়োগ মূলত দুই প্রকার।  active এবং passive investment; – বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিনিয়োগ।  প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে আপনি সরাসরি কাজ করবেন।  আপনার টাকার সাথে এর পেছনে সময়ও দিতে হবে।  যেমন নিজের দোকান, ওয়েবসাইট – ইত্যাদি।  পরোক্ষ বিনিয়োগে আপনাকে সাধারণত সময় দিতে হবে না।  বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেয়া পরোক্ষ বিনিয়োগের উদাহরণ, অথবা এরচেয়েও কম টাকা বিনিয়োগ করে আপনি লাভবান হতে পারেন।  বিশ্বস্ত কারও ব্যবসায়ে টাকা খাটিয়ে লাভ পেতে পারেন।

এটা করার বদলে আপনার অভ্যাস যদি হয় শুধুই টাকা জমিয়ে রাখা, তবে সুদূর ভবিষ্যতেও আপনার সত্যিকার ধনী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বই অথবা জিরো টু ওয়ান ঘরানার আপনাকে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে।

মনে রাখবেন, টাকা জমিয়ে কেউ ওয়ারেন বাফেট বা স্যাম ওয়ালটন হতে পারেনি।  ধনী হতে চাইলে বিনিয়োগের অভ্যাস করুন।

০৭. আপনার কোনও আর্থিক লক্ষ্য নেই

Black and White Dartboard

এটা খুবই ভয়ঙ্কর একটা বিষয়।  বেশিরভাগ সময়েই, কোনওকিছু অর্জন করতে হলে তার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হয়।  আপনার যদি টার্গেট না থাকে, তবে আপনি পরিকল্পনাও করতে পারবেন না।  আর পরিকল্পনা না করলে সফল হওয়া খুবই কঠিন।

ডাক্তার হতে গেলে যেমন সেই লক্ষ্যে পড়াশুনা করতে হয়, বড় খেলোয়াড় হতে গেলে যেমন প্রাকটিস করতে হয় – ধনী হতে হলেও আপনাকে বিশেষ কিছু কাজ করতে হবে।

ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য না থাকলে যেমন আপনি সেইরকম পড়াশুনা করবেন না, ধনী হওয়ার জন্য লক্ষ্য ঠিক না করলেও ধনী হতে পারবেন না।

শুধু ‘আমি ধনী হব’ – এই লক্ষ্য থাকলেই হবে না।  আপনি কত টাকার মালিক হতে চান, কবে হতে চান – এসবও ঠিক করে রাখতে হবে।  তাহলে নিজেই আপনি সেই পথে চলতে শুরু করবেন।  যেদিন যত টাকার মালিক হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করবেন, সেদিনই তত টাকা আপনার হবে – ব্যাপারটা সেরকম নয়।  কিন্তু আপনি যদি লক্ষ্য ঠিক না করেন – তবে কাজ শুরু করাই হবে না।  লক্ষ্য আসলে গন্তব্য আর পরিকল্পনা হল ম্যাপ।  সব প্ল্যান যে কাজ করবে তা নয়।  মাঝে মাঝে আপনি ভুল পথেও যেতে পারেন, কিন্তু লক্ষ্য ঠিক রাখলে সঠিক পথ অবশ্যই খুঁজে পাবেন।

০৮. আপনি মনে করেন যে, পরিশ্রম নয়, ভাগ্যই ধনীদের ধনী করে

Black Laptop Beside Black Computer Mouse Inside Room

আপনার মাঝে যদি এই মানসিকতা থাকে, তবে আপনি জীবনে আর যাই হোন ধনী হতে পারবেন না।  এটা আসলে পরিশ্রম না করার একটা অজুহাত।

অনেকে বলেন, ধনী হতে হলে ধনী হয়ে জন্মাতে হয়, অথবা কারও সাহায্য পেতে হয়।  কিন্তু সত্যি কথা হল, আপনি যতক্ষণ না নিজে কিছু করে দেখাতে পারছেন – ততক্ষণ আপনাকে কেউ সাহায্য করবে না। 

ভারতীয় হিসেবে সবচেয়ে কম বয়সে বিলিওনেয়ারের খাতায় নাম লেখানো বিজয় শেখর শর্মা এক সময়ে না খেয়ে দিন কাটাতেন।  বাড়িওয়ালার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতেন।  শুধু চা আর পানি খেয়ে রাতের পর রাত পার করেছেন।  কিন্তু এত কষ্ট করে যখন তিনি দেখানোর মত কিছু একটা দাঁড় করাতে পেরেছেন – তখনই তাঁর সাহায্যে বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসেছেন।  আজ তিনি প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক।  আলিবাবা প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার জীবনী থেকে জানা যায়, তিনি একদমই হতদরিদ্র এবং ব্যর্থ অবস্থা থেকে আজকের বিশ্বের সেরা একজন ধনী হয়েছেন।  মিডিয়া মোগল বিলিওনেয়ার অপরাহ উইনফ্রে ছিলেন কৃষি খামারে আশ্রিত ও অত্যাচারিত।

এঁরা যদি ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে থেকে পরিশ্রম না করতেন – তবে কেউই এতটা ধনী আর সফল হতে পারতেন না।  এমনকি বেশিরভাগ ধর্মেও বলা আছে যে, নিজে চেষ্টা না করলে সৃষ্টিকর্তাও সাহায্য করেন না।

কাজেই, নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রম করতে হবে।  এই লেখাটি পড়ছেন, মানে আপনি পৃথিবীর সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যার হাতে ইন্টারনেট ও এমন একটি ডিভাইস আছে – যা দিয়ে আপনি যে কোনও কিছু শিখতে পারবেন।  শুধুমাত্র একটি ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে আজ নিজের চেষ্টায় অনেক কিছু করা যায়।

আপনার বর্তমান আর্থিক অবস্থা যা-ই হোক না কেন, সঠিক ভাবে পরিকল্পনা ও পরিশ্রম করলে ৫ বছরের মধ্যে আপনার অবস্থা ঘুরে যাবে।  ৫ বছরের বেশি কোনওভাবেই লাগার কথা নয়।

সঠিক পথে পরিশ্রম করলে আপনি যতটা আশা করছেন, তারচেয়েও তাড়াতাড়ি আপনি ধনী হতে পারবেন।  কাজেই সৌভাগ্যের আশায় বসে না থেকে নিজের ভাগ্য নিজে গড়তে শুরু করুন।

০৯. আপনি নিজের দোষ দেখেন না

Close-up Photo of Iphone Tempered Glass

আপনার জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেই যদি আপনি নিজের ভুল কোথায় হয়েছে – তা খোঁজার বদলে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর পথ খোঁজেন – তাহলে নিজের চেষ্টায় ধনী হওয়ার কথা ভুলে যান।

এই স্বভাব যাদের মাঝে আছে, তারা আসলে দায়িত্ব নিতে পারে না।  আপনার যদি একটা ব্যবসা থাকে, এবং ব্যবসায় লস হলে আপনি নিজের ভুল না খুঁজে অন্যের দোষ খুঁজতে থাকেন – তাহলে সেই অবস্থা থেকে জীবনেও বের হতে পারবেন না।

কোনও সমস্যার সমাধান যদি খুঁজে না পান – তবে নিজের দিকে তাকান।  হয়তো সমস্যাটা আপনার নিজের।  মার্কেটে আপনার নতুন পন্য বা সার্ভিস চালাতে পারছেন না – এটা কখনওই মার্কেটের দোষ নয়।  আপনি আপনার পন্য বা সেবা ঠিকমত প্রচার করতে পারছেন না, অথবা আপনার প্রোডাক্টে কোনও ত্রুটি আছে।

বেশিরভাগ মানুষ এটা করতে চায় না, কারণ এতে নিজের চোখে নিজের অনেক ত্রুটি ধরা পড়ে।  মানুষ নিজের সামনে দাঁড়াতে ভয় পায়।  আপনার ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না, কারণ আপনি এখনও ভালোকরে ব্যবসা বোঝেননি। আপনার পন্য মানুষ কিনছে না, কারণ আপনার পন্যে সমস্যা আছে।  সাধারণ মানুষ এসব নিয়ে চিন্তা করতে চায় না।  কিন্তু আপনি যদি সাধারণ মানুষের মত আচরণ করেন, তবে কখনওই অসাধারণ হতে পারবেন না। 

কাজেই, কোনওকিছু ঘটলে সবার আগে নিজের দিকে তাকান।  আপনার নিজের কোথায় ভুল হয়েছে – তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।  তাহলেই এক সময়ে আর ভুল করবেন না।

১০. আপনি নতুন জিনিস শেখা বন্ধ করে দিয়েছেন

Clear Light Bulb

সময়ের সাথে যদি নিজেকে আপডেট করতে না পারেন, তবে যেখানে আছেন – সেখানেই সারাজীবন থেকে যাবেন।

আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা যদি সামনের ৫ বছর একই রকম থাকে, তবে সামনের ৫ বছর আপনার আর্থিক অবস্থাও এমনই থাকবে।

বেশিরভাগ মানুষ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হয়ে গেলে ভাবে তাদের শেখা শেষ হয়ে গেছে।  কিন্তু তখন থেকেই আসলে সত্যিকার শেখা শুরু হয়।  আপনি যদি মাস্টার্স বা অনার্স শেষ হওয়ার পর পড়াশুনা করা বন্ধ করে দেন – তাহলে হয়তো একটা ভালো চাকরি বা আয়ের রাস্তা পেয়ে যাবেন।  কিন্তু নতুন জ্ঞান আর দক্ষতা অর্জন না করলে আপনার আয়ও একটা পর্যায়ে এসে থেমে যাবে।

আমরা এখানে নিজের চেষ্টায় ধনী হওয়ার কথা বলছি।  অবশ্যই অবৈধ উপায়ে বা ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বড়লোক হওয়ার কথা বলছি না।  ওইসব পথে ধনী হওয়ার মাঝে কোনও মহত্ব নেই।  যাঁরা নিজের চেষ্টায় স‌ৎ পথে থেকে ধনী হয়েছেন – তাঁরা পরিশ্রম করেই ধনী হয়েছেন। পরিশ্রমের সাথে তাঁরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শিখে নিজেদের আপডেট করেছেন।

মানুষের মাঝে একটা ভুল ধারণা রয়েছে যে, অবৈধ পথে ছাড়া বড়লোক হওয়া যায় না।  এই ধারণা আঁকড়ে থাকলে আপনার পক্ষে ধনী হওয়া সম্ভব নয়।  স‌ৎ পথে থেকে পরিশ্রম আর আত্ম উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের দেশেই অনেক মানুষ ধনী হয়েছেন।  কৃষি খামার করে কোটিপতি হওয়ার উদাহরণ আমাদের দেশেও কম নয়।

সেইসাথে অনেক কৃষক আছেন, যাঁরা দু’বেলা খেতে পান না।  কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেই কোটিপতি কৃষকদের শুরুটা হয়েছিল সেই না খেতে পাওয়া কৃষকদের মতই।  কিন্তু তাঁরা তাঁদের কাজের বিষয়ে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেছেন – এবং সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়েছেন।

প্রতিটি পেশার ক্ষেত্রেই এই দুই ধরনের লোক পাওয়া যাবে। কেউ কোটি টাকার ওপরে বসে আছে, আর কেউবা দিন চালাতে পারে না।  আপনি নিজেকে যত আপডেট করবেন – সামনে থাকা সুযোগগুলোকে তত ভালো করে চিনতে পারবেন পারবেন, এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারবেন।

আপনি যে ক্ষেত্রেই কাজ করেন না কেন, সেই বিষয়ে প্রচুর বই রয়েছে, সেইসাথে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শিখতে পারেন।  কোর্স করতে পারেন।  ইন্টারনেটে আজকাল যে কোনও বিষয়ে ফ্রি শেখা যায়।  সাধারণ মানুষ যখন গড়ে বছরে একটি বই পড়ে, টপ সিইওরা গড়ে ৫০টি বই পড়েন।  ফেসবুক বা ইউটিউবে বিনোদন না করে সেই সময়টা শেখার পেছনে লাগান।  একটা সময়ে নিজের উন্নতি আপনি নিজেই টের পাবেন।

নিজের বিষয়ে বই পড়ার পাশাপাশি সফল মানুষদের জীবনী ও তাদের লেখা বই পড়ুন।  স্টিভ জবস, বা  ইলন মাস্কের মত মানুষদের স্টাডি করুন।  জানুন তাঁরা কিভাবে কঠিন সময় পার করেছেন, কিভাবে তাঁরা জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন – এগুলো আপনাকে অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি সফল হওয়ার পথও দেখাবে।

সেলফ ডেভেলপমেন্ট কোচ ব্রায়ান ট্রেসি বলেন, কেউ যদি তার আয়ের মাত্র ৩% নিজের শেখার পেছনে ব্যয় করতে শুরু করে, তবে অল্প দিনের মধ্যেই তার আয় বহুগুণে বাড়তে থাকবে।

আপনার কাজের মান ও ব্যাপ্তি বাড়ার সাথে সাথে আর্থিক অবস্থাও ভালোর দিকে যেতে থাকবে।

১১. আপনি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলছেন না

Photo of Black Flat Screen Monitor

জীবনকে যদি বদলাতে হয়, তবে অভ্যাসও বদলাতে হবে।  যদি চান যে, ২০১৮ থেকে ২০১৯ অন্যরকম হোক,  তবে আপনার নিজেকেও অন্যরকম হয়ে উঠতে হবে।  এবং সেই পরিবর্তনটা হতে হবে ভালো পরিবর্তন।

নিজের অভ্যাস না বদলে আর্থিক অবস্থা বদলের আশা করাটা হবে বোকামী।  গত বছর যদি দিনে ৬ ঘন্টা কাজ করে থাকেন, তবে এই বছর আপনাকে ১০ ঘন্টা কাজ করতে হবে।

যদি বলেন, আপনার হাতে সময় নেই, তাহলে ভুল করবেন।  সব খেলোয়াড়ই দিনে ২৪ ঘন্টা করে পায়, কিন্তু সবাই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো হতে পারে না।  কারণ, সবাই মাঠ ছেড়ে চলে গেলেও রোনালদো কয়েক ঘন্টা একা একা প্রাকটিস করেন।

আপনি যদি মধ্যবিত্ত বা গরিব অবস্থা থেকে ‘বড়লোক’ এর কাতারে যেতে চান – তবে ৯টা-৫টা মনোভাব মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন।  অফিসের কাজ শেষে বাসায় ফিরে নিজের কাজ করুন।  অথবা সকাল ৮টার বদলে সকাল ৬টায় উঠুন।  দেড়-দুই ঘন্টা সময় নিজের স্বপ্নের পেছনে দিন।  পড়াশুনা করুন, অথবা কাজ করুন। অফিস থেকে ফিরেও এই কাজ করুন। এই দেড়-দুই ঘন্টা এক্সট্রা সময় একদিন আপনাকে এক্সট্রা অর্ডিনারি বানিয়ে দেবে।

এভাবে আরও যদি বাজে অভ্যাস থাকে, সেই বাজে অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলুন।

নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নিজেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করুন।  কমফোর্ট জোন থেকে নিজেকে বের করার চেষ্টা করুন।  যেসব করতে ভয় বা অস্বস্তি লাগে – সেগুলো করার চেষ্টা করুন। আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে আপনার রুটিন ও অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে।

আরও পড়ুন: যে কোনও বাজে অভ্যাস দূর করার উপায় (মিনি হ্যাবিটস বুক রিভিউ)   

১২. আপনি ব্যর্থতাকে অতিরিক্ত ভয় পান

Two White Wooden Mannequins on Wooden Chess Board

সত্যি বলতে, পৃথিবীতে কেউই ব্যর্থ হতে চায় না।  এই কারণেই বেশিরভাগ মানুষ খুব বড় লক্ষ্য ঠিক করতে ভয় পায়।  সব সময়ে নিরাপদ থাকতে চায়।

আপনার মাঝে যদি ব্যর্থতার ভয় অতিরিক্ত হয়, তবে আপনিও খুব বড় লক্ষ্যের চিন্তা করার সাহস পাবেন না।  বড় লক্ষ্যে ঝুঁকিও বেশি – এটা জেনেই বড় লক্ষ্য অর্জনের কাজ করতে হয়।

আপনি যদি ধনী হতে চান, তবে অনেক নিরাপদ ক্যারিয়ারের হাতছানি আপনাকে অগ্রাহ্য করতে হবে।  হয়তো উচ্চ বেতনের সরকারি চাকরির সুযোগও ছাড়তে হবে।  কিন্তু আপনাকে নিরাপত্তা আর বিরাট ধনসম্পদের সম্ভাবনার একটি বেছে নিতে হবে।  আর সত্যি কথা বলতে, আপনি যদি হাল না ছেড়ে চেষ্টা করে যান – তবে এক সময়ে না এক সময়ে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

আপনার হয়তো মনে হতে পারে, ব্যর্থ হলে যারা নিরাপদ জীবন বেছে নিতে বলেছিল – তাদের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না।  কিন্তু আপনি যতক্ষণ  না হার মানছেন – ততক্ষণ আপনার সম্ভাবনা আছে।  কাজেই ধনী হতে চাইলে ভয়কে দূরে ঠেলেই কাজ করতে হবে।

১৩. আপনি সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা বা তার কম কাজ করেন

Alarm Clock Lying on Multicolored Surface

১১ নম্বর পয়েন্টে ৯-৫টা কাজ করার কথা বলেছিলাম।  এই অভ্যাস যদি আপনার মাঝে থাকে, তবে আপনাকে সারাজীবন মধ্যবিত্ত হয়েই কাটাতে হবে।  ধনী হওয়ার প্রথম শর্ত, চাকরিজীবি মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

পৃথিবীর যত সফল উদ্যোক্তা বা ধনী ব্যক্তি আছেন, তাঁরা কম পক্ষে সপ্তাহে ৬০ ঘন্টা কাজ করতে অভ্যস্ত।  অফিসে একটু বেশি কাজের চাপের কারণে ৮ ঘন্টার বেশি কাজ করতে গিয়ে যদি আপনি বিরক্ত হন – তবে নিশ্চিত ভাবেই আপনি ধনী হওয়ার পথে নেই।

আপনার কোম্পানীতে বড় পর্যায়ে যেতে গেলে, অথবা ব্যবসাকে অনেক বেশি লাভজনক করতে হলে আপনাকে অন্তত কিছুদিন অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে।  ইলন মাস্ক সপ্তাহে ১০০ ঘন্টারও বেশি কাজ করেন।  ধনী মানুষেরা কতটা সময় কাজ করেছেন – সেদিকে মনোযোগ দেয়ার বদলে কতটা কাজ করেছেন – সেদিকে বেশি মনোযোগ দেন।  মাইক্রোসফটের শুরুর কয়েক বছর বিল গেটস কাজ করতে করতে টেবিলেই ঘুমিয়ে পড়তেন।  ঘুম থেকে উঠে আবার সেখান থেকেই শুরু করতেন।

বড় ব্যবসায়ী হতে হলে আপনাকে অন্তত ২ বছর প্রতি সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ ঘন্টা কাজ করতে হবে।  এর কোনও বিকল্প নেই।

আপনি যে কাজই করেন না কেন, আলস্যকে প্রশ্রয় দেবেন না।  কাজের সময়ে মুডকে পাত্তা দেবেন না।  না হলে আপনার ধনী হওয়ার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাবে।

আগেও বলেছি, সবাই দিনে ২৪ ঘন্টা পায়।  এই সময়ের যতটা আপনি ধনী ও সফল হওয়ার পেছনে ব্যয় করবেন, আপনার ধনী ও সফল হওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে।

১৪. আপনি সময়ের হিসেবে টাকা পেতে চান

100 Euro Banknote Beside Round Black Chronograph Watch

পৃথিবীর সব অর্থ তিন শ্রেণীর মানুষের মাঝে ভাগ হয়।  একদম নিচে শ্রমিক শ্রেণী।  তারা যতটুকু কাজ করে, সেই কাজের বিনিময়ে তারা টাকা পায়।  কাজ নেই, টাকাও নেই।  এই শ্রেণীর মানুষ কত টাকা পাবে তা সাধারণত তারা কয় ঘন্টা কাজ করেছে, বা কত ইউনিট পন্য তৈরী করেছে – তার ওপর নির্ভর করে।  কল কারখানা বা ওয়ার্কশপের সবচেয়ে অদক্ষ শ্রমিকরা এই মডেলে কাজ করে।

এর ওপরে আছে দক্ষ কর্মী ও চাকরিজীবিরা।  প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়া ও কাজ করার জন্য এদের একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দেয়া হয়।  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা হয় মাসিক বেতন। এছাড়া কাজের ওপরে কিছু বোনাস থাকে।  অনেক বেশি পরিমান পরিশ্রম করে শ্রমিক থেকে দক্ষ শ্রমিক ও চাকরিজীবি পর্যায়ে ওঠা যায়।  এদের আয়ের পরিমান শ্রমিকদের চেয়ে ভালো।  কিন্তু এদেরকেও টাকার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।  যত টাকার কাজই করুক না কেন, একটা নির্দিষ্ট পরিমান অর্থই এরা পায়।

চাকরির বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের সেই আয়ের পরিমান বাড়ে – তবে তারা কখনওই সত্যিকার ধনীর পর্যায়ে যেতে পারে না।

সবচেয়ে ওপরের ভাগে আছে সেইসব মানুষ, যারা বাকি দুই শ্রেণীকে টাকা দিয়ে থাকে।  এরা অন্যের জন্য কাজ না করে নিজের জন্য কাজ করে।  যখন অন্যকে সার্ভিস দেয়, তখনও তারা নিজের জন্যই কাজ করে।  তারা মোট যে টাকা আয় করে, সেই আয় থেকেই তারা অন্যদেরকে টাকা দেয়।

এই ধরনের মানুষরা তাদের আইডিয়া ও দক্ষতা দিয়ে অন্যদের পরিচালনা করে।  তাদের সিদ্ধান্তেই অন্যরা চলে।  এই ধরনের মানুষরা যে সব সময়ে ব্যবসায়ীই হবেন – তা নয়।  কিন্তু এরা নিজেদের এমন পর্যায়ে নিয়ে যান যাতে করে একটা নির্দিষ্ট জিনিস তাদের ছাড়া অচল।  এরা সময়ের হিসেবে টাকা পান না, বরং নিজেদের বুদ্ধি, জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতার জন্য পান।  মূলত এই ধরনের মানুষরাই ধনী বা বিখ্যাত হন।  এরা যে সব সময়ে ব্যবসায়ী হন – তা নয়।  অভিনেতা, বেস্ট সেলিং লেখক, শিল্পী, ডিজাইনার – এমন আরও অনেক মানুষ তাঁদের ইউনিক দক্ষতার কারণে ধনী ও বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।

বেশিরভাগ মানুষ যে পথে চলে, এরা তার থেকে আলাদা পথে চলেন।  তাদের কাজের ধরন ও চিন্তা ভাবনাও আলাদা।  জীবনের একটা সময়ে সময়ের হিসেবে টাকা পেলেও নিজেকে উন্নত ও আপডেট করতে করতে তাঁরা এমন একটা জায়গায় চলে আসেন যে, তাদের বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা আর কারও ভেতরে থাকে না।  তাদের মত করে সিদ্ধান্ত নেয়া বা আইডিয়া ভাবার মত মানুষও খুঁজে পাওয়া কষ্ট।

আপনি যদি সময় বা কাজের ইউনিট হিসেবে টাকা আয় করার চিন্তা করেন – তবে আপনি কোনওদিন আর্থিক ভাবে ওপরের সারির মানুষ হতে পারবেন না।  আপনাকে চিন্তা করতে হবে সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরে।  আপনি যতই কাজ করেন, দিনে ২৪ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না – যেটা কোনও মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়।

তাই ধনী হতে চাইলে সময়ের হিসেবে কাজ করে টাকা আয়ের বদলে ‘স্পেশাল ওয়ান’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।  ইউনিক হওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার বিশেষ জ্ঞান আর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।

পরিশিষ্ট:

প্রতিটি মানুষই অপার সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়।  সবার ভেতরেই প্রতিভা থাকে – এবং প্রতিটি প্রতিভাকেই যদি ঠিকভাবে যত্ন করা হয়, তবে সেটাই মানুষকে চূড়ান্ত সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

যদি আপনার কাছে ধনী হওয়া মানে সফল হওয়া হয়, তবে তা হওয়ার সব গুণই আপনার মাঝে আছে।  শুধু সেই গুণগুলোর যত্ন নিতে হবে।  আর যেসব অভ্যাস সেইসব গুণের বিকাশে বাধা দিচ্ছে, সেগুলো বাদ দিতে হবে।

এই লেখায় যে অভ্যাস বা চিহ্নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো আপনার ধনী হয়ে ওঠার অভ্যাস সৃষ্টিতে অনেক বেশি বাধা দিচ্ছে।

আপনার মাঝেও গুণ আছে টাকা জমিয়ে সেই টাকা বিনিয়োগ করার।  শুধু বাজে খরচের অভ্যাস বাদ দিতে হবে।  তেমনি হিসেব না করার অভ্যাস বাদ দিলেই আপনি হিসেবি হয়ে উঠবেন।

ধনী হতে চাইলে তা হওয়া আসলে খুব কঠিন নয়।  শুধু প্রয়োজন ধনী না হওয়ার চিহ্নগুলো চিনে নিয়ে সেগুলোকে নিজের জীবন থেকে দূর করে দেয়া।  সেই কাজে এই লেখাটি যদি আপনার সামান্য উপকারেও আসে – তাহলেই আমাদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

আমরা কতটা সফল হয়েছি, তা আমাদের কমেন্ট করে জানান।  আর যদি মনে হয় লেখাটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে – তবে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন। 

আমরা আমাদের পাঠকদের কাছথেকেও অনুপ্রেরণামূলক লেখা আশা করছি।  এই ধরনের লেখা যদি আপনিও লিখতে পারেন তবে write@test.edaning.com – এ ইমেইল করতে পারেন।  আপনার লেখা যত্ন সহকারে আপনার নাম সহ আমরা প্রকাশ করব। 

নিয়মিত অনুপ্রেরণামূলক ও আত্ম উন্নয়ন মূলক লেখা পাওয়ার জন্য আমাদের সাথে থাকুন।  সাফল্যের পথে লড়াকু সব সময়ে আপনার সাথে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *