ধনী হওয়ার পথে ৫টি প্রধান মানসিক বাধা: রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইয়ের আলোকে


  • By
  • November 20th, 2018
  •    
  • পড়তে সময় লাগবে: 2 minutes
  • 2,168 views

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড, রবার্ট কিওসাকির লেখা একটি বেস্ট সেলার বই।  মূলত ধনী হওয়ার জন্য একজন মানুষের মাঝে কি ধরনের মানসিকতা সৃষ্টি করতে হয় – সেই বিষয়টিই লেখক বইয়ে বর্ণনা করেছেন।

লেখকের মতে ৫টি স্বভাব মানুষকে ধনী হওয়ার মত মানসিকতা গড়ে তুলতে বাধা দেয় : ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব, আলস্য, বদ অভ্যাস, অহঙ্কার।

চলুন, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক

ভয়:

লেখক বলেন, ভয় মানুষের একটি স্বাভাবিক আবেগ।  সাহসীরাও ভয় পায়।  কিন্তু তারা ভয় পেলেও এগিয়ে যায়।  আর ভীতুরা ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।  বড় কিছু করতে গেলে ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু তার জন্য পিছিয়ে গেলে কোনওদিনই বড় কিছু করা হবে না।

আত্মবিশ্বাসের অভাব:

যেসব মানুষের আত্মবিশ্বাস নেই, তারাই নিজের ক্ষমতার ব্যাপারে সন্দেহ করে।  আপনি একটা কিছুর ব্যাপারে না-ই জানতে পারেন, কিন্তু শিখতে বাধা কোথায়? এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা কোনও একটি প্রোডাক্ট নিজেই খুব ভালো বানাতে পারেন, কিন্তু তবুও তাঁরা অন্যের অধীনে কাজ করেন।  এর কারণ তাঁরা আত্মবিশ্বাসী নন।

অনেকেই হয়তো এমনটা ভাবেন: “আমি প্রোডাক্ট বানাতে পারলেও, মার্কেটিং, ট্যাক্স – এসব তো বুঝি না”

এই ধরণের মানুষদের আসলে আত্মবিশ্বাসের অভাব।  মধ্যবিত্তদের মাঝে এই ধরনের মানসিকতা বেশি দেখা যায়। তারা কোনও অজুহাত পেলেই পিছিয়ে যায়। কঠিন কিছুর সামনে পড়লেই মনে করে তাকে দিয়ে সেটা সম্ভব না।

একজন ধনী মানসিকতার মানুষ যদি দেখেন যে তিনি একটি প্রোডাক্ট বানাতে পারেন, তখন ব্যবসা করার জন্য অন্য যেসব জিনিস শেখার দরকার – সেগুলোও শিখতে শুরু করেন।  তাঁরা বিশ্বাস করেন, প্রয়োজনীয় সবকিছু শেখার মত ক্ষমতা তাঁদের আছে। 

আলস্য:

লেখকের মতে, ধনী হওয়ার ৩য় মানসিক বাধাটি হলো আলস্য।  আলস্যের কারণে মানুষ পরিশ্রম করতে চায় না।  দক্ষতা থাকলেও সেই দক্ষতাকে কাজে লাগায় না।

হয়তো কারও যোগ্যতা আছে মাসে ৫০০০০ টাকা আয় করার কিন্তু আলস্যের কারণে সে মাত্র ২০০০০ টাকা আয় করে।  সেই সাথে অনেকেই আলস্যের কারণে, আজ করি-কাল করি করতে করতে নিজের ব্যবসা শুরুই করতে পারে না।

যার মাঝে ধনী হওয়ার সত্যিকার ইচ্ছা আছে, সে কখনও আলস্যকে প্রশ্রয় দেবে না।  যে কাজ যতটুকু করা দরকার, যখন করা দরকার – তারা সেভাবেই কাজ করে।  আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখে না। 

বদ অভ্যাস:

লেখকের মতে, ধনী হওয়ার পথে প্রধান আরেকটি মানসিক বাধা হলো বিভিন্ন ধরনের বদ অভ্যাস।  অনেকেই বদ অভ্যাসের কারণে আয় করা টাকা ঠিকমত কাজে লাগাতে পারে না।

একজন মানুষের যদি দিনে ১০০ টাকা বাজে খরচ হয়, মাসের শেষে তা ৩০০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।  বেশিরভাগ মানুষই এভাবে নানান বাজে খরচে টাকা নষ্ট করে, এবং কাজের সময়ে টাকা হাতে থাকে না।

অহেতুক রেস্টুরেন্টে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে টাকা খরচ করা – ইত্যাদি অভ্যাসের কারণে একজন মানুষ টাকা জমাতে পারে না, যে টাকা সে কোথাও বিনিয়োগ করতে পারতো। 

টাকা নষ্ট করার বাইরে, দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, কাজ ফেলে রাখা, রুটিন করে না চলা – ইত্যাদি অভ্যাসও মানুষের ধনী হওয়ার পথে বাধা দেয়।

নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চাইলে সব ধরনের বাজে অভ্যাস দূর করতে হবে।

অহঙ্কার:

কথায় বলে, “অহঙ্কার পতনের মূল”।  রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড এর লেখক রবার্ট কিওসাকির মতে, অহঙ্কার শুধু পতনের মূলই নয়, অহঙ্কার মানুষকে ওপরেই উঠতে দেয় না।

একজন মানুষের কথা ধরা যাক, যে বড় একটি ডিগ্রী নিয়েছে বলে বিক্রয় কর্মী হিসেবে কাজ করতে চায় না। এর পেছনে রয়েছে অহঙ্কার।

নিজের চেষ্টায় ধনী হতে গেলে অনেক কিছু শিখতে হয়।  অনেক অভিজ্ঞতা নিতে হয়, এবং অনেক ধরনের মানুষের সাথে মিশতে জানতে হয়।

আপনার হয়তো একটি পি.এইচ.ডি আছে, কিন্তু একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্রও আপনাকে এমন কিছু শেখাতে পারে, যা সম্পর্কে আপনার কোনও ধারণাই ছিল না। 

যতক্ষণ না আপনি নিজের ভেতর থেকে সব ধরনের অহঙ্কার ঝেড়ে ফেলতে পারছেন, ততক্ষণ আপনি কিছু শিখতেও পারবেন না।  নিজের চেষ্টায় ধনী হতে চাইলে আপনাকে সব সময়ে শেখার চেষ্টা করতে হবে, সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে, এবং সব ধরনের মানুষের সাথে মিশতে জানতে হবে। 



জনাব কিওসাকি তাঁর রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইতে যে ৫টি মানসিক বাধার কথা বলেছেন, এগুলো আসলে যারা সারাজীবন গরিব বা মধ্যবিত্ত থাকে – তাদের সাধারণ বৈশিষ্ট।  ধনী হতে হলে প্রথমেই এই জিনিসগুলো নিজের ভেতর থেকে বিদায় করতে হবে।

রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইটির পুরো বুক সামারি আমরা শিঘ্রই প্রকাশ করতে যাচ্ছি।  সেটি পড়ার জন্য আমাদের সাইটে ও ফেসবুক পেজে এ্যাকটিভ থাকুন।

আর এই লেখাটি কেমন লাগলো, তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানান।  যদি মনে হয় লেখাটি পড়ে অন্যরাও উপকৃত হবেন, তবে শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন।

আমাদের সাথে থাকুন।  সাফল্যের পথে, সব সময়ে, লড়াকু আপনার সাথে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *